শনি সিংনাপুর, মহারাষ্ট্র।
শনি সিঙ্গাপুর, মহারাষ্ট্র।
ইতিহাস বলে, এক রাখাল বালক প্রথম এই প্রস্থর খন্ড দেখে এবং সূচালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে পাথর থেকে রক্ত বের হতে থাকে। রাখাল অবাক হয়ে যায় এবং গ্রামবাসীদের খবর দিলে সকল গ্রামবাসী এটিকে ঘিরে সেই দৃশ্য দেখে। রাত্রে রাখাল স্বপ্ন দেখে যে শনিদেব বলছেন " তিনিই ও শনিশ্চর এবং কালো পাথর তাঁর স্বয়ম্ভু রূপ।" তাঁকে খোলা আকাশের নীচে স্থাপন করতে বলেন এবং নিয়মিত পূজা, বিশেষ করে শনিবারে আবশ্যই পূজা করতে বলেন। তিনি আশ্বাস দেন যে তিনি সকল গ্রামবাসীকে চোর ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা করবেন। এখন রোজদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার দর্শনার্থী আসে।আর শনিবার অমাবস্যা তিথি হলে ভক্ত সমাগম বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সাধারণত শনিদেবকে জল, তিলতেল ও ফুল দিয়ে পূজা করা হয়। গুলসন কুমারের ছবি " সূর্য পুত্র শনিদেব" তৈরি হবার পর এর প্রচার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
শনি সনাতন হিন্দু ধর্মের একজন দেবতা যিনি সূর্য্যদেব ও ছায়া দেবীর পুত্র। এজন্য তাঁকে ছায়াপুত্রও বলা হয়।শনিদেব, মৃত্যু ও ন্যায় বিচারের দেবতা, যমদেব বা ধর্মরাজের জেষ্ঠ ভ্রাতা। ব্রহ্ম পুরান মতে একদিন শনির ধ্যানের সময়, তাঁর স্ত্রী সুন্দর বেশভূষা নিয়ে তাঁর কাছে এসে কামতৃপ্তি প্রার্থনা করলেন। ধ্যান মগ্ন শনি সেদিকে খেয়াল না করাতে অতৃপ্তকাম পত্নী শনিকে অভিশাপ দিলেন......"আমার দিকে ফিরেও চাইলে না। এরপর থেকে যার দিকে চাইবে, সেই ভস্ম হয়ে যাবে।" তাই জ্যোতিষীদের মত,
শনির কূদৃষ্টি অশুভ ফল নিয়ে আসে। মধ্যযুগীয় গ্রন্থ মতে শনি হলেন একজন উগ্র দেবতা, যিনি দুর্ভাগ্যের অশুভ বাহক হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু আবার মৎস্য পুরান শনিদেবকে লোকহিতকর দেবতার তালিকাতেই ফেলেছে।
পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠী অঞ্চলে শনিদেবের ছোট-বড় মন্দির দেখা যায়। সারা ভারতে বেশ কিছু বড় বড় শনি মন্দির ও তীর্থ স্থান উল্লেখযোগ্য তারমধ্যে মহারাষ্ট্রের শনি-সিঙ্গাপুর মন্দির একটি।
এটি সিরিডি থেকে প্রায় ৭০ কি মি দূরে আহমেদ নগর জেলায় অবস্থিত। এটিকে শনিশ্চরদেব বা শনিদেবের মন্দির বলা হয়। এই মন্দির যে গ্রামে অবস্থিত তার বিশেষত্ব হল, গ্রামের বাড়ীগুলি, দোকান পাট, পোস্ট অফিস, স্কুল-কলেজ বা হোটেল রেস্টুরেন্টের কোনো কিছুর দরজা নাই। গ্রামবাসীদের দৃঢ় বিশ্বাস যে শনিমহাদেব তাদের রক্ষাকর্তা। তাদের ধারণা যে চূরি করতে যাবে, শনিদেব তাকে শাস্তি দেবেন। শনি মূর্তিটি প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুটের একটি
কালো পাহাড়ী পাথর। মূর্তিটি খোলা আকাশের নিচে স্থাপন করা আছে উপরে কোনো ছাদ নেই। এটি একটি স্বয়ম্ভু মূর্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
ইতিহাস বলে, এক রাখাল বালক প্রথম এই প্রস্থর খন্ড দেখে এবং সূচালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে পাথর থেকে রক্ত বের হতে থাকে। রাখাল অবাক হয়ে যায় এবং গ্রামবাসীদের খবর দিলে সকল গ্রামবাসী এটিকে ঘিরে সেই দৃশ্য দেখে। রাত্রে রাখাল স্বপ্ন দেখে যে শনিদেব বলছেন " তিনিই ও শনিশ্চর এবং কালো পাথর তাঁর স্বয়ম্ভু রূপ।" তাঁকে খোলা আকাশের নীচে স্থাপন করতে বলেন এবং নিয়মিত পূজা, বিশেষ করে শনিবারে আবশ্যই পূজা করতে বলেন। তিনি আশ্বাস দেন যে তিনি সকল গ্রামবাসীকে চোর ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা করবেন। এখন রোজদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার দর্শনার্থী আসে।আর শনিবার অমাবস্যা তিথি হলে ভক্ত সমাগম বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সাধারণত শনিদেবকে জল, তিলতেল ও ফুল দিয়ে পূজা করা হয়। গুলসন কুমারের ছবি " সূর্য পুত্র শনিদেব" তৈরি হবার পর এর প্রচার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
প্রায় চারশো বছরের প্রথা অনুযায়ী মেয়েদের এই মন্দিরে ঢোকা নিষেধ ছিল। ২৬শে জানুয়ারি ২০১৬ সালে তৃপ্তি দেশাই এর নেতৃত্বে ৫০০ জন মহিলা জোর করে এই মন্দিরে ঢুকতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। মামলা শুরু হয়। ৩০শে মার্চ ২০১৬তে বম্বে হাইকোর্ট মহারাষ্ট্র সরকার কে মহিলাদের প্রবেশের অধিকার দিতে বলেন। সেই রায় অনুসারে ২০১৬ সালের ৮ই এপ্রিল থেকে মহিলারা এই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা হ'ল ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে ইউকো ব্যাংক এখানে একটি শাখা খোলে যার কোনো তালা নেই। দেশের এটিই একমাত্র তালাবিহীন ব্যাঙ্ক। স্থানীয় পুলিশের প্রবল আপত্তি ছিল যেহেতু এটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি নিতিবিরুদ্ধ কাজ। অবশ্য ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষ দাবি করে যে লকার ও অন্যান্য দরকারি কাগজপত্র যথাযথ নিরাপদ ভাবে রাখা আছে।
এই সিংগাপুর গ্রামের চারিদিকে আখের চাষের জমিতে পরিপূর্ণ। মেশিনের বদলে, গরু দিয়ে আঁখ মারাই করে রস বার করা হয়। এই ভাবে রস বার করার পদ্ধতিকে স্থানীয় ভাষায় " রসভন্তি " বলা হয়। স্থানীয় লোক ও দর্শনার্থীদের কাছে এটি একটি সস্তা, সুস্বাদু ও উপাদেয় পানীয়।
,





























Comments
Post a Comment