শৈলশহর মাথেরান, মহারাষ্ট্র।
মাথেরান হিল ষ্টেশন, মহারাষ্ট্র।
সহ্যাদ্রী পহাড় শ্রেনীর সবুজের নানা শেডে মোড়া এই মাথেরান। দুধ-সাদা মেঘের দল কেউ ভাসছে, কেউবা শুয়ে আলসামি ভাঙছে, কেউবা রূপ গন্ধ পাল্টাচ্ছে প্রতি নিয়ত। মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায় কারজাত তফসিলে পশ্চিম ঘাট পর্বত মালায় এটি অবস্থিত। সমুদ্রতল থেকে উচ্চতা প্রায় ২৬২৫ ফুট। ভারতের ছোট শৈল শহরগুলির মধ্যে এটি একটি এবং এটি এশিয়ার একমাত্র অটোমোবাইল বর্জিত হিল ষ্টেশন। ২০০৫ সালে ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকার এই এলাকাকে ইকো জোন ঘোষণা করায় এখানে কোনোও গাড়ি চলাচল করে না। অনেকেই একে " ফুলরানী "ও বলে।
আদি বম্বের ইংরেজরা যখন গরমের চোটে হা! ঈশ্বর, হা! ঈশ্বর করত, তখন তাদের এই মাথেরানে আনা হত। এই উঁচুতে এসে ওরা স্বস্তি পেতেন যা এখনও পাওয়া যায়। তাইতো একটা ছোট্ট ছুটি কাটাতে দূর দূর থেকে মানুষ মাথেরানে ভিড় জমান। কিন্তু কোনো হাঁসফাঁস নেই। নেই কোনো দূষণ বা কোনো অস্বস্তি, কারন কোনো গাড়ি ঢোকা বারন। প্রায় ইউরোপীয় কিছু শহরদের মতো।
যাঁরা কোথায় বেড়াতে যাবার কথা শুনলে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করেন যে সেখানে কি কি দেখার আছে, মাথেরান তাঁদের জন্য নয়।কারন মাথেরানে নেই কোনো ভারত বিখ্যাত সৌধ, নেই কোনো পুরানো কেল্লা, নেই কোনো রাজরাজড়ার ইতিহাস, নেই তুষারাবৃত গিরিশৃঙগ বা সেই ধরনের কোনো দর্শনীয় স্থান। পশ্চিম ঘাট পর্বত মালায় অবস্থিত মাথেরান, ভারতের একমাত্র সম্পূর্ণ দূষণ মুক্ত শৈল শহর। যাঁরা, সূর্যালোক প্রবেশ করে না এমন ঘন জঙ্গলে কোনো পাথরের উপর বা কোনো গাছের মোটা শিকড়ের উপর বসে ঘন্টার পর ঘন্টা গাছের পাতার মর্মর ধ্বনি শুনতে ভালোবাসেন, যাঁরা সামনের পাহাড় ঘেরা উপত্যকার সৌন্দর্য দুচোখ ভরে দেখতে পছন্দ করেন, যাঁরা দেখতে চান পাহাড়ী ঝর্ণা বা পাহাড়ের গায়ে সূর্যাস্তের ম্লান আলো, মাথেরান তাঁদের জন্য।
নেরাল ষ্টেশন থেকে মাথেরানের টয় ট্রেন ধরতে হয়। দূরত্ব ২১ কি মি। ১৯০৭ সালের ১৫ই এপ্রিল থেকে এই টয় ট্রেন চালু হয়। রেলপথের ষ্টেশন গুলো হচ্ছে..... জুম্মাপট্টি, ওয়াটার পাইপ, আমনলজ ও শেষ ষ্টেশন মাথেরান। দার্জিলিং টয় ট্রেনের মত ট্রেন। নাম " মাথেরান কুইন "। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর বগি থাকে। মাথেরান লাইট রেলওয়ের ( MLR ) সষ্টা মিষ্টার হোসেন আদমজি পিয়েরভয় , ( যিনি সাধারণ ভাবে মাথেরান রেলওয়েওয়ালা নামে পরিচিত ), এক অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রঞ্জার নিদর্শন রেখেছেন। ১৯০১ থেকে ১৯০৭...... এই সাত বছর সময় লেগেছিল এই রেলপথ নির্মাণে।খরচ হয়েছিল প্রায় ষোল লক্ষ টাকা, যার সবটাই বহন করেছিলেন তাঁর পিতা। অধিগ্রহণের আগে পর্যন্ত এই পরিবারটিই মালিক ছিলেন এই রেলপথটির।
এছাড়া নেরাল ষ্টেশনের ঠিক বাইরেই ভাড়ার গাড়ি অপেক্ষা করছে। জনপ্রতি ভাড়া হিসেবে বা পুরো গাড়ি ভাড়া করা যেতে পারে। এই গাড়ি নিয়ে যাবে আঠারো কি মি দূরে দস্তুরি পার্কিং এরিয়া পর্যন্ত। সময় নেবে কম বেশী ২৫-৩০ মিনিট। দস্তুরি পার্কিং এরিয়া হল মাথেরানের প্রবেশ দ্বার। নিজস্ব গাড়ি নিয়ে এলেও এখানে গাড়ি রেখে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে মাথেরানের দিকে। এখানে জনপ্রতি ৫০টাকা (শিশুদের ২৫ টাকা) পুরকর জমা দিতে হয়। এখান থেকে একটু এগোলেই মাথেরানের আগের ষ্টেশন আমনলজ। এখান থেকে মাথেরানের ভারা দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪৫ টাকা আর প্রথম শ্রেণীর ৩০০ টাকা। ট্রেন ছাড়ার ৪৫ মিনিট আগে টিকিট কাউন্টার খোলে।যতগুলি সিট আছে ততগুলি টিকিট দেওয়া হয়। যেখানেই যান না কেন starting point এর ষ্টেশন থেকে end point এর ষ্টেশনের টিকিট দেওয়া হয়। মাত্র
১৫ - ২০ মিনিটের ট্রেন যাত্রা আপনাকে পৌঁছে দেবে মাথেরান ষ্টেশন। অবশ্য আমনলজ থেকে মাথেরান যাবার বেশ কয়েকটি উপায় আছে। ঘোরায় চড়ে যাওয়া যেতে পারে। টানা-ঠেলা রিকশা করেও যাওয়া যেতে পারে। এখানকার রিকশা গুলি ছোট ছোট আর একজনই যাত্রী নিতে পারে। প্রতি রিকশা পিছু চালক থাকে দুজন করে। একজন টানে আর অপরজন পিছন থেকে ঠেলে। আর যাদের অভ্যাস আছে, তাদের কাছে এই তিন কিলোমিটার হাঁটা কোনো সমস্যাই নয়। রাস্তা ধরে হাঁটা যায় বা রেললাইন ধরে হাঁটা যায়।
মাথেরানের চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ৩৮টি প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের পয়েন্ট। এগুলির মধ্যে মাধবজী পয়েন্ট, খান্ডালা পয়েন্ট, লর্ড পয়েন্ট, লুইজা পয়েন্ট, ইকো পয়েন্ট, হানিমুন পয়েন্ট, মালোদা পয়েন্ট, প্যানোরমা পয়েন্ট, হার্ট পয়েন্ট, মাঙ্কি পয়েন্ট, সানসেট পয়েন্ট উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আছে পাহাড়ের উপর এক বিরাট লেক.... শার্লট লেক। এর কাছেই গ্রাম দেবতা শ্রী পিসারনাথের মন্দির।
এই শৈল শহরের আবিষ্কার কর্তার নাম জানা যায়নি। তবে বৃটিশ স্থপতির মাথেরান তৈরি। বৃটিশ স্থাপত্যের আদলে হিল ষ্টেশনের বাড়ীঘর এখনও দেখা যায়। সেসব বাড়ীর নামও বিদেশি। মাথেরানের মূল অংশটি হল মার্কেট এরিয়া। আছে পাহাড়ের ঢালে বেশ কিছু গ্রাম। পাহাড়ে আদিবাসিন্দারাও আছেন। সকালে তারা মাথেরানের মার্কেটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে সবজি, ফুল,ফল,মধু আর হস্ত শিল্প সামগ্রী। স্কু যেল, হোটেল, রোস্তরা, বাগান, পার্ক, পোস্ট অফিস, হাসপাতাল,এ টি এম, ঘোড়া দৌড়ের মাঠ, মন্দির, মসজিদ, গির্জা,লেক......... মোটামুটি সবই পাওয়া যায় এই মাথেরানে।
সহ্যাদ্রী পহাড় শ্রেনীর সবুজের নানা শেডে মোড়া এই মাথেরান। দুধ-সাদা মেঘের দল কেউ ভাসছে, কেউবা শুয়ে আলসামি ভাঙছে, কেউবা রূপ গন্ধ পাল্টাচ্ছে প্রতি নিয়ত। মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায় কারজাত তফসিলে পশ্চিম ঘাট পর্বত মালায় এটি অবস্থিত। সমুদ্রতল থেকে উচ্চতা প্রায় ২৬২৫ ফুট। ভারতের ছোট শৈল শহরগুলির মধ্যে এটি একটি এবং এটি এশিয়ার একমাত্র অটোমোবাইল বর্জিত হিল ষ্টেশন। ২০০৫ সালে ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকার এই এলাকাকে ইকো জোন ঘোষণা করায় এখানে কোনোও গাড়ি চলাচল করে না। অনেকেই একে " ফুলরানী "ও বলে।
আদি বম্বের ইংরেজরা যখন গরমের চোটে হা! ঈশ্বর, হা! ঈশ্বর করত, তখন তাদের এই মাথেরানে আনা হত। এই উঁচুতে এসে ওরা স্বস্তি পেতেন যা এখনও পাওয়া যায়। তাইতো একটা ছোট্ট ছুটি কাটাতে দূর দূর থেকে মানুষ মাথেরানে ভিড় জমান। কিন্তু কোনো হাঁসফাঁস নেই। নেই কোনো দূষণ বা কোনো অস্বস্তি, কারন কোনো গাড়ি ঢোকা বারন। প্রায় ইউরোপীয় কিছু শহরদের মতো।
যাঁরা কোথায় বেড়াতে যাবার কথা শুনলে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করেন যে সেখানে কি কি দেখার আছে, মাথেরান তাঁদের জন্য নয়।কারন মাথেরানে নেই কোনো ভারত বিখ্যাত সৌধ, নেই কোনো পুরানো কেল্লা, নেই কোনো রাজরাজড়ার ইতিহাস, নেই তুষারাবৃত গিরিশৃঙগ বা সেই ধরনের কোনো দর্শনীয় স্থান। পশ্চিম ঘাট পর্বত মালায় অবস্থিত মাথেরান, ভারতের একমাত্র সম্পূর্ণ দূষণ মুক্ত শৈল শহর। যাঁরা, সূর্যালোক প্রবেশ করে না এমন ঘন জঙ্গলে কোনো পাথরের উপর বা কোনো গাছের মোটা শিকড়ের উপর বসে ঘন্টার পর ঘন্টা গাছের পাতার মর্মর ধ্বনি শুনতে ভালোবাসেন, যাঁরা সামনের পাহাড় ঘেরা উপত্যকার সৌন্দর্য দুচোখ ভরে দেখতে পছন্দ করেন, যাঁরা দেখতে চান পাহাড়ী ঝর্ণা বা পাহাড়ের গায়ে সূর্যাস্তের ম্লান আলো, মাথেরান তাঁদের জন্য।
নেরাল ষ্টেশন থেকে মাথেরানের টয় ট্রেন ধরতে হয়। দূরত্ব ২১ কি মি। ১৯০৭ সালের ১৫ই এপ্রিল থেকে এই টয় ট্রেন চালু হয়। রেলপথের ষ্টেশন গুলো হচ্ছে..... জুম্মাপট্টি, ওয়াটার পাইপ, আমনলজ ও শেষ ষ্টেশন মাথেরান। দার্জিলিং টয় ট্রেনের মত ট্রেন। নাম " মাথেরান কুইন "। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর বগি থাকে। মাথেরান লাইট রেলওয়ের ( MLR ) সষ্টা মিষ্টার হোসেন আদমজি পিয়েরভয় , ( যিনি সাধারণ ভাবে মাথেরান রেলওয়েওয়ালা নামে পরিচিত ), এক অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রঞ্জার নিদর্শন রেখেছেন। ১৯০১ থেকে ১৯০৭...... এই সাত বছর সময় লেগেছিল এই রেলপথ নির্মাণে।খরচ হয়েছিল প্রায় ষোল লক্ষ টাকা, যার সবটাই বহন করেছিলেন তাঁর পিতা। অধিগ্রহণের আগে পর্যন্ত এই পরিবারটিই মালিক ছিলেন এই রেলপথটির।
এছাড়া নেরাল ষ্টেশনের ঠিক বাইরেই ভাড়ার গাড়ি অপেক্ষা করছে। জনপ্রতি ভাড়া হিসেবে বা পুরো গাড়ি ভাড়া করা যেতে পারে। এই গাড়ি নিয়ে যাবে আঠারো কি মি দূরে দস্তুরি পার্কিং এরিয়া পর্যন্ত। সময় নেবে কম বেশী ২৫-৩০ মিনিট। দস্তুরি পার্কিং এরিয়া হল মাথেরানের প্রবেশ দ্বার। নিজস্ব গাড়ি নিয়ে এলেও এখানে গাড়ি রেখে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে মাথেরানের দিকে। এখানে জনপ্রতি ৫০টাকা (শিশুদের ২৫ টাকা) পুরকর জমা দিতে হয়। এখান থেকে একটু এগোলেই মাথেরানের আগের ষ্টেশন আমনলজ। এখান থেকে মাথেরানের ভারা দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪৫ টাকা আর প্রথম শ্রেণীর ৩০০ টাকা। ট্রেন ছাড়ার ৪৫ মিনিট আগে টিকিট কাউন্টার খোলে।যতগুলি সিট আছে ততগুলি টিকিট দেওয়া হয়। যেখানেই যান না কেন starting point এর ষ্টেশন থেকে end point এর ষ্টেশনের টিকিট দেওয়া হয়। মাত্র
১৫ - ২০ মিনিটের ট্রেন যাত্রা আপনাকে পৌঁছে দেবে মাথেরান ষ্টেশন। অবশ্য আমনলজ থেকে মাথেরান যাবার বেশ কয়েকটি উপায় আছে। ঘোরায় চড়ে যাওয়া যেতে পারে। টানা-ঠেলা রিকশা করেও যাওয়া যেতে পারে। এখানকার রিকশা গুলি ছোট ছোট আর একজনই যাত্রী নিতে পারে। প্রতি রিকশা পিছু চালক থাকে দুজন করে। একজন টানে আর অপরজন পিছন থেকে ঠেলে। আর যাদের অভ্যাস আছে, তাদের কাছে এই তিন কিলোমিটার হাঁটা কোনো সমস্যাই নয়। রাস্তা ধরে হাঁটা যায় বা রেললাইন ধরে হাঁটা যায়।
মাথেরানের চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ৩৮টি প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের পয়েন্ট। এগুলির মধ্যে মাধবজী পয়েন্ট, খান্ডালা পয়েন্ট, লর্ড পয়েন্ট, লুইজা পয়েন্ট, ইকো পয়েন্ট, হানিমুন পয়েন্ট, মালোদা পয়েন্ট, প্যানোরমা পয়েন্ট, হার্ট পয়েন্ট, মাঙ্কি পয়েন্ট, সানসেট পয়েন্ট উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আছে পাহাড়ের উপর এক বিরাট লেক.... শার্লট লেক। এর কাছেই গ্রাম দেবতা শ্রী পিসারনাথের মন্দির।
এই শৈল শহরের আবিষ্কার কর্তার নাম জানা যায়নি। তবে বৃটিশ স্থপতির মাথেরান তৈরি। বৃটিশ স্থাপত্যের আদলে হিল ষ্টেশনের বাড়ীঘর এখনও দেখা যায়। সেসব বাড়ীর নামও বিদেশি। মাথেরানের মূল অংশটি হল মার্কেট এরিয়া। আছে পাহাড়ের ঢালে বেশ কিছু গ্রাম। পাহাড়ে আদিবাসিন্দারাও আছেন। সকালে তারা মাথেরানের মার্কেটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে সবজি, ফুল,ফল,মধু আর হস্ত শিল্প সামগ্রী। স্কু যেল, হোটেল, রোস্তরা, বাগান, পার্ক, পোস্ট অফিস, হাসপাতাল,এ টি এম, ঘোড়া দৌড়ের মাঠ, মন্দির, মসজিদ, গির্জা,লেক......... মোটামুটি সবই পাওয়া যায় এই মাথেরানে।




























































Comments
Post a Comment