লিটিল আন্দামান।
*লি*টি*ল * আন্দামান
=====================
লিটিল আন্দামান দ্বীপ ( স্থানীয়দের কাছে : গৌবোলম্বে ) ৭০৭ বর্গ কিলোমিটার ( ২৭৩ বর্গ মাইল ) আয়তন নিয়ে ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ এবং এটি দ্বীপপুঞ্জের দখ্খীন প্রান্তে অবস্থিত। এই দ্বীপটি পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ৯০ কিমি ( ৫৫ মাইল ) দখিনে অবস্থিত। এটিই এই দ্বীপের নিকটতম বিমানবন্দর , যেখানে কোলকাতা ও চেন্নাই - এর সাথে নিয়মিত বিমানের ব্যবস্হা রয়েছে।
লিটিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ গ্রট আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের সমকখ্য। দ্বীপটি দৈর্ঘে ২৪ কিমি আর প্রস্থে ৪৪ কিমি। নিচু দ্বীপে বিস্তৃত বৃষ্টি অরন্য এবং বেশ কয়েকটি বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ রয়েছে। লিটিল আন্দামানের বাতিঘর ( এ কে এ রিচার্ডসনের বাতিঘর ) হাট বে বন্দর থেকে ১৪ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত এবং লিটিল আন্দামানের দখিনে অবস্থিত।
এই দ্বীপে ওঙ্গে আদিবাসী উপজাতির আবাস রয়েছে। তারা এই দ্বীপটিকে ইগু বেলঙ বলে অভিহিত করে থাকে। তাই এটিকে একটি উপজাতি সঙরখানাগারও বলা যেতে পারে। বাঙালি এবং অন্যান্য স্থানের বাসিন্দারাও এখানে বাস করে। এই দ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ১৯ হাজারের মতো যারা ১৮ টি গ্রামে ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। কুয়েতে-টু-কায়েজ প্রধান গ্রাম । হাট বে - তে অবস্থিত।
হাট বে একটি গভীর জলের বন্দর, যা প্রবাল প্রাচীরের একটি ফাঁকে অবস্থিত। দ্বীপের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই বন্দর, লিটিল আন্দামানের প্রবেশ বিন্দু। প্রতিদিনের নৌ পরিষেবা রয়েছে হাট বে ও পোর্ট ব্লেয়ারের মধ্যে। সময় লাগে ৯ থেকে ১০ ঘন্টা। কোরাল কুইন বা কেমবেল বে জাহাজ গুলি আকারে বড়, আরাম দায়ক ও দর্শনীয়ও বটে। গোটা জাহাজই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। খাবারের একাধিক ক্যান্টিন রয়েছে। জাহাজের টিকিট Directorate of Shipping Services, ফনিস্ক বে জেটি থেকে যাবার একদিন আগে পাওয়া যায়।যদি আপনার ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকে তবে এই সমুদ্র যাত্রায় ডলফিনের দেখাও পেয়ে যেতে পারেন। আর সমুদ্র যদি উত্তাল থাকে তবে যাতায়াতের সময় বেশী লাগে আর সী সিকনেশও হতে পারে।
![]() |
| জাহাজের নাম : কেম্বেল বে |
এছাড়াও রয়েছে পবনহান্স লিমিটেডের একটি হেলিকপ্টার পরিষেবা। সময় লাগে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট। যদিও এর টিকিট পাওয়া দুষ্কর।
![]() |
| পোর্ট ব্লেয়ার বিমান বন্দরে হেলিকপ্টার পরিষেবা |
হাট বে -তে থাকার সবচেয়ে ভালো জায়গা APWD এর গেষ্ট হাউস। ঘর গুলি খুব সুন্দর। নিজস্ব canteen থাকায় খাবার সুবিধা আছে। এছাড়া বন দপ্তর বা কোষ্টগার্ড দপ্তরের গেষ্ট হাউস পাওয়া যায়। দু একটি নিম্ন মানের হোটেলও পাওয়া যায়। কিন্তু এই হোটেগুলি ভ্রমণার্থীর অভাবে সিজন ছাড়া অন্য সময়ে প্রায়ই বন্ধ থাকে। ভারতীয় সব রকমের খাবার পাওয়া যায় যদিও দাম অনেক বেশি। দখ্যিন ভারতীয় খাবারের আধিক্য দেখা যায়।
![]() |
| APWD গেষ্ট হাউজ |
পূর্ব দিকের সমুদ্রের পাড় ধরে সদর রাস্তা চলেছে হাট বে- তে। আর গ্রাম গুলি এই রাস্তার ধারে অবস্থিত। এই গ্রামগুলির নামকরণ হাট বে থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে। যেমন গ্রামের নাম ১৬ কিমি বা ১৪ কিমি অর্থাৎ গ্রামটি হাট বে থেকে ১৬ কিমি বা ১৪ কিমি দূরে।
![]() |
| সমুদ্রের পূর্ব পাড় দিয়ে সোজা চলেছে সদর রাস্তা। |
দ্রষ্টব্যস্থান বলতে এখানে অনেকগুলি বালুকাময় সমুদ্র সৈকত দেখতে পাওয়া যায়। এগুলির মধ্যে বাটলার বে, কালা পাথ্থর , হাওয়া, হরবিন্দর, চট্টান প্রভৃতি বীচগুলি উল্লেখযোগ্য। বাটলার বে বীচ এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো। এছাড়াও রয়েছে দুটি সুন্দর জলপ্রপাত। একটি দুর্গম অঞ্চলে। রয়েছে একটি বিরাট জলাধার আর আছে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় পাম তেল তৈরির কারখানা। কারখানার পাশেই রয়েছে পাম ফলের গাছের বাগান বা বলতে পারেন বন। কিন্তু দুঃখের বিষয় কারখানাটি কিছু দিন হল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আর রয়েছে একটি বিরাট নারকেলর গুরো তৈরির কারখানা যেখান থেকে সারা ভারতবর্ষে ও ভারতবর্ষের বাইরে এই গুলো সরবরাহ করা হয়। আছে সরকারি এগ্রিকালচার ফার্ম যেখান থেকে স্থানীয় অধিবাসীদের বিনা পয়সায় দুষ্প্রাপ্য গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
![]() |
| এগ্রিকালচার ফার্ম |
বেলেমাছির উপদ্রব রয়েছে সর্বত্র। আর আজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জলা জায়গায় কুমিরের আনাগোনা। এগুলি জলা জায়গা থেকে প্রায়শই পাশের পাকা রাস্তায় উঠে আসে খাবারের সন্ধানে। তাই সরকার থেকে সতর্ক বাণী লেখা পোষ্টার রাস্তার পাশে কিছুটা দূরে দূরে দেখা যায়।
স্থানীয় অধিবাসীরা সহজ ,সরল ও বন্ধুত্ব পরায়ন। সাহায্যের হাত বাড়িয়েই রয়েছে। যদিও ঐ সদূরে বন্য এলাকায় সাচ্ছন্দ জীবন যাপনের অনেক কিছুরই অভাব রয়েছে। তবুও লিটিল আন্দামানের দু-তিন দিনের টুর খুবই উপভোগ্য হয়।
















Comments
Post a Comment