দেবকুন্ড জলপ্রপাত -- উড়িষ্যা
উড়িষ্যার দেবকুন্ডা জলপ্রপাত ----
দেবকুন্ড বা দেওকুন্ডা প্রকৃতির তৈরি এক বিরাট কুন্ড। এটি ওড়িষ্যার ময়ূরভঞ্জ জেলায় অবস্থিত এবং শিমলিপাল ফরেষ্টের একটি অংশ। এটি একটি শিমলিপাল ফরেষ্টের প্রবেশ পথও। লাগোয়া জলপ্রপাত এই কুন্ড সৃষ্টি করেছে। দেবকুন্ড শব্দটি দুটি ওরিয়া শব্দের সঙযোগে সৃষ্টি হয়েছে। এগুলি হ'ল (১) দেবা ও (২) কুন্ডা। অর্থাৎ দেবতার ছোট জলাশয় বা কুন্ড। কথিত আছে দেবতারা এখানে স্নান করেন। তাই নাম দেবকুন্ড । এই কুন্ডের নীচে রয়েছে এক বিরাট প্রস্তর খন্ড। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সেটা আসলে শিবলিঙ্গ। অনেক চেষ্টা করেও তা নাকি তোলা যায়নি। কুন্ডের জল এমন স্বচ্ছ যে, অনেক গভীর পর্যন্ত নজর যায়।
পঞ্চলিঙ্গশ্বর থেকে নীলগিরি উদলা হয়ে সিমলিপাল ফরেষ্টের উদলা ডিভিশনে দেবকুন্ড। উদলা থেকে জিপে ২৮ কিমি দূরে দেবকুন্ড। পাহাড় আর জঙ্গল। শেষ ৫ কিমি গভীর জঙ্গল। চারপাশে পাহাড়ে ঘেরা। ৫০ ফুট উঁচু থেকে জলধারা নেমে আসছে। নীচে কুন্ড ...যেটি মোট পাঁচটি ধারার মিলনে সৃষ্টি হয়েছে। তাই এর আর এক নাম পঙ্চকুন্ড বা Place of Five Lakes. দেবকুন্ড থেকে প্রায় দুশো সিঁড়ি উঠে গিয়েছে ঝর্নার উৎসের দিকে। দেবী অম্বিকা তথা দুর্গা মাতার মন্দিরটি এখানে অবস্থিত এবং এখানকার এক দ্রষ্টব্য স্থান। এই মন্দিরটি আবিষ্কার করেন রাজকুমার প্রফুল্ল চন্দ্র ভঞ্জ দেও। ইনি বৃটিশ রাজত্বে ময়ূরভঞ্জ অঞ্চলের রাজা ছিলেন এবং একজন গবেষকও। তিনি এই দেবকুন্ডে থাকতেন এবং গবেষনার কাজ করতেন। সেই ১৯৪০ সালে ময়ূরভঞ্জ রাজার তৈরি মন্দিরে পূজো হয় আজও। চোখ মুগ্ধ করা প্রকৃতির মধ্যেই নানা রঙের চেনা অচেনা পাখির ডাক, নানা রঙের প্রজাপতির বর্ণালি শোভা বাড়িয়ে তোলে এখানকার মাধুর্যকে।
মন্দরটিতে দেবী দুর্গা, মা অম্বিকা রূপে পূজিত হন। দেবীকে জীবন্ত দেবী বলে মনে করা হয়। মূর্তিটি চতুর্ভুজা এবং মার্বেল পাথরের তৈরি। দেবী সিংহের উপর উপবিষ্ট এবং চার হাতে চারটি অস্ত্র। এগুলি হ'ল খর্গ, ত্রিশুল, খরপারা ও ডাম্বারু। স্থানীয়দের বিশ্বাস যে মা তার হাতে অস্ত্র নিয়ে সকল বিপদ থেকে মানুষদের রক্ষা করছেন। তাই তাঁর মুখমণ্ডল স্থির এবং এক উজ্জ্বল আভা বেড়িয়ে আসছে। মাতৃস্নেহে তিনি উপাসক মন্ডলির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন । আরও বিশ্বাস করে.....যে তার দিকে তাকিয়ে তাঁর কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে তিনি এক স্বর্গীয় পর্শের অনুভূতি পান। দূর্গা পূজায় হোম-যঞ্জ আর চন্ডী পাঠ হয়। তান্ত্রিক ও বৈদিক উভয় মতেই এই পূজা সম্পন্ন হয়। মা অম্বিকা ছাড়া গনেশ , শিব, হনুমান, মা মঙ্গলা ও শ্রী চন্দ্রিকা প্রভৃতি দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে ঐ মন্দিরে। এখানে দূর্গা পূজা ছাড়াও পানা সংক্রান্তি, বাসন্তী পূজা এবং রোজো সংক্রান্তি মহাসমারোহে পালন করা হয়।
শীতকালে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এখানে বেড়ানোর সবচেয়ে ভালো সময়। কেননা এই সময় ১০ ডিগ্রি থেকে ২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা বিরাজ করে এবং আবহাওয়া খুব আরামদায়ক থাকে।
বাড়িপাতা থেকে প্রায় ৬০ কিমি এবং বালাশোড় থেকে প্রায় ৮৫ কিমি। আর চাদিপুর থেকে কমবেশি ১০০ কিমি। তবে যাতায়াতের সমস্যা আজও রয়েছে। তাই পর্যটন মানচিত্রে এর নামডাক কম। এখানে থাকতে চাইলে একটু হতাশ হতে হবে। কারণ এখানে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই।




















Comments
Post a Comment