উড়িষ্যার জঙ্গলের খোঁজে -- কুলডিহা
কান্ড এবার পাহাড়ি উড়িষ্যা --
কুলডিহার জঙ্গল :
************************************একই অঙ্গে কত রূপ! এক প্রান্তে উত্তাল বঙ্গোপসাগর , অন্য প্রান্তে ভয়ানক গহীন কিছু জঙ্গল আর ছোট নাগপুর মালভূমির পর্বতমালার সারি। আবার কালাহান্ডির মরুভূমি। একই উড়িষ্যার এত রূপ। যেন ছোট ভারতবর্ষের রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে উড়িষ্যা। এই উড়িষ্যার জঙ্গলের স্বাদ নিতে হলে আপনাকে যেতেই হবে কুলডিহায়। দিন দুয়েকের ফুরসতে কুলডিহা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাঙচুয়ারিতে কাটিয়ে আসলে ভালই লাগবে আপনার।
উড়িষ্যার বালাসোর জেলায় " কুলডিহা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাঙচুয়ারি "। প্রায় ৩০০ বর্গ কিমি মাপের এই জঙ্গল নীলগিরি পাহাড়ের কোলে। এর অন্য দিকে সিমলিপাল। সুখুয়াপাতা আর গাগুয়া -- এই দুই পাহাড় কুলডিহাকে সিমলিপাল থেকে আলাদা করে রেখেছে। সমুদ্রতল থেকে মাত্র ১৬৯ মিটার উঁচুতে এই জঙ্গলের "ল্যান্ডস্কেপ" চোখকে আরাম দেয়। অষ্টাপাহাড়, দেবগিরি, রাঙ্গামাটিয়া আর কোলিয়া ---- এই ছোট ছোট চারটে পাহাড় ---- যাদের উচ্চতা ৪২৩ থেকে ৬৮২ মিটারের মধ্যে-- এই ল্যান্ডস্কেপকে সত্যিই আলাদা রূপ দিয়েছে। আবার অঙ্গনা , কমলা, বসুধারা আর উসটাল নামে বেশ কিছু ছোট ছোট নদী বয়ে গেছে কুলডিহার ভিতর দিয়ে। আর আছে দুই জলাধারও। কুলডিহার এই জলস্রোত আর জলাশয়ের আশপাশের জায়গাগুলো সেখানকার হাতিদের স্নান করার আর ভালোবাসার জায়গাও বটে।
নীলগিরি বাজার থেকে পারমিট করিয়ে নিয়ে আপনাকে জঙ্গলের প্রবেশের গেট অর্থাৎ বালিয়ান গেটে পৌঁছাতে হবে। প্রায় জনমানবশূন্য এই গেটে ফরেষ্ট গার্ডকে ধরে জঙ্গলের বাকি রাস্তাটুকু বুঝে নিতে পারেন। জঙ্গলের মোরামের উঁচু নীচু রাস্তা দিয়ে এগুতে থাকলে এক সময় পৌঁছে যাবেন কুলডিহা ফরেষ্ট রেষ্ট হাউজে। আগে এই রেষ্ট হাউজে রাত্রি বাসের বন্দোবস্ত ছিল অরন্য প্রেমীদের। এখন অবশ্য নেই। আপাতত কুলডিহার বাফার এলাকায় পর্যটকদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকার ব্যবস্থা হয়েছে খুব সুন্দর রিশিয়া ইকো ক্যাম্পের টেন্টে। চারিদিকে ইলেকট্রিকের তারের বেড়া দেওয়া এই ক্যাম্পে নাকি রাতের দিকে প্রায়শই গজরাজের আনাগোনা হয়। ফরেষ্ট রেষ্ট হাউজের জঙ্গলে দেখতে পারেন বেশ কিছু নাম না জানা পাখি আর জায়েন্ট রঙ্গিন কাঠবেড়ালীর ঝাঁপ এ গাছ থেকে ও গাছে। প্রায় ১০০ মিটার দূরে জঙ্গলের মধ্যে রয়েছে সল্টপিট। যদি আপনার ভাগ্য সহায় থাকে তবে দেখতে পারেন হাতির পালের নুন চাটার দৃশ্য বা জঙ্গলের মধ্যে ছুটে বেড়ানো হরিণের দল। এবার এখান থেকে রওনা হয়ে কিছু পাহাড়ী ঝর্ণা বা জলের খাড়ি পেড়িয়ে কখন পৌঁছে যাবেন রিশিয়া ইকো পার্কের পিছনের রিশিয়া ড্যামে । এখানে সূর্যাস্তের অনবদ্য লাল রং দেখে আপনি অবশ্যই মোহিত হয়ে যাবেন।
নভেম্বর থেকে মার্চ-- যাওয়ার সেরা সময়। তাপমাত্রা শীতে ৮ ডিগ্রি গ্রীষ্মে ৩৮ ডিগ্রি সেন্টিগের্ড পর্যন্ত হয়ে থাকে। বালাশোড় এখান প্রায় ৩১ কিমি। ট্রেনে বালেশ্বর এসে সেখান থেকে গাড়িতে যেতে হবে। বেশিরভাগ পর্যটক পঞ্চলিঙ্গশ্বর দেখে কুলডিহা যান। গাড়িতে গেলে ১৬ নঙ জাতীয় সড়ক ধরে শেড়গড় হয়ে যেতে হবে। আর হাতে যদি সময় থাকে তবে চট করে ঘুরে আসতে পারেন চাঁদিপুরও।


























Comments
Post a Comment