উজ্জয়িনীর তান্ত্রিক দেবী গড়কালিকা


তন্ত্র-মন্ত্রের দেবী .... গড়কালিকা  




মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর কালীঘাটে কালিকা মাতার প্রাচীন মন্দিরটি গড়কালিকা নামে পরিচিত। গড় নামক স্থানে এর অবস্থান বলে একে ঐ নামে ডাকা হয়। আবার গাদ গ্রামের কাছাকাছি এর অবস্থান বলে অনেকে এই মন্দিরকে গদকালিকাও বলে। দেবী এখানে জনপ্রিয়তায় উজ্জয়িন মহাকালী নামে পরিচিত।  যিনি কিনা তন্ত্র-মন্ত্রের দেবী নামেও বিখ্যাত। 




দেবী এখানে তান্ত্রিক দেবী। এই মন্দির কতদিনের প্রাচীন কেউ তা বলতে পারে না। তবে এটি মহাভারত যুগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং মূর্তিটি সত্যযুগের বলে ধারনা করা হয়। পরবর্তি কালে সম্রাট হর্ষবর্ধন মন্দিরের সংস্কার করেছিলেন  বলে যানা যায়। পরে গোয়ালিয়রের মহারাজ এটিকে পূর্ন  নির্মাণ করেন। 



গদকালিকা মন্দিরের অসাধারণ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে, বিশেষ করে ছাত্রদের মধ্যে কারণ এটি সেই স্থান যেখানে কালিদাস মা গদকালিকার পূজা করেছিলেন এবং জ্ঞান অর্জন করেছিলেন বলে মনে করা হয়। কিংবদন্তি হল যে মহান কবি কালিদাস মূলত অশিক্ষিত ছিলেন,  কিন্ত কালিকা দেবীর প্রতি তার মহান ভক্তির কারনে তিনি অতুলনীয় সাহিত্য দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।  যদিও এটি একটি শক্তিপীঠ নয় , হরসিদ্ধি অঞ্চলে অবস্থানের কারনে এটি একটি শক্তিপীঠের সমান গুরুত্ব বহন করে। 



লিঙ্গ পুরাণে যে গল্প বর্ননা  করা হয়েছে সেটি এই রকম  ---- রামচন্দ্র যখন বিজয়ী হয়ে অযোধ্যা ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি রুদ্রসাগর উপকূলের কাছে অবস্থান করছিলেন।  সেই রাতেই খাবারের সন্ধানে বের হওয়া দেবী কালিকা এখানে এসে হনুমান ধরার চেষ্টা করেন।  কিন্ত তাতে হনুমান অত্যন্ত উগ্র রুপ ধারন করেন। তারপর দেবী সেখান থেকে চলে যান। 



এই মন্দিরের পাশেই রয়েছে গনেশের প্রাচীন ও পৌরাণিক মন্দির। শিপ্রার পবিত্র জলধারা বয়ে চলেছে অল্প কিছু দূর দিয়েই। নদীর ঘাটে রয়েছে সতীর অনেক মূর্তি। নদীর পারে রয়েছে এক বিখ্যাত শ্মশান উখেশ্বর। একই ভাবে গনেশ মন্দিরের সামনে  রয়েছে প্রাচীন হনুমান মন্দির , যেখানে বিষ্ণুর একটি সুন্দর পঞ্চমুখী মূর্তি আছে।



গদকালিকা মন্দির তার ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য বিখ্যাত।  মায়ের কাছে কাপড়ের তৈরী নরমুন্ড নিবেদন করা হয়। দশেরার দিনে প্রসাদ হিসাবে লেবু বিতরন করা হয়। অনেক তান্ত্রিক এই মন্দিরে তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপের জন্য আসেন। বিশ্বাস করা হয় নবরাত্রির সময় মাতা কালিকা তাঁর ভক্তদের কাছে বিভিন্ন রূপে আবির্ভূত হন।  এই সময় শুধু দেবীকে দর্শন করলেই অপরিসীম সাফল্য আসে।



উজ্জয়িনী রেল শ্টেশন থেকে ৫ কি মি দূরে আর বাস স্ট্যান্ড থেকেও ৫ কি মি দূরে এই  মন্দির।  দু জায়গা থেকেই  অটো বা টোটো করে সহজেই এখানে আসা যাঘ। আর বিমানে আসতে হলে ....... ইন্দোর দেবী অহিল্যা বাই হোলকার বিমান বন্দর ৫৮ কি মি দূরে। 



মন্দিরের দেয়ালে বিভিন্ন দেবতা ও পবিত্র নিদর্শন খোদাই করা আছে। নিয়মিত আরতি ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয় প্রতি সন্ধায়। দেবী কালিকার নিখুঁত ভাস্কর্য মূর্তির দিকে তাকানো একটি ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতা। সকাল সন্ধায় আরিতিতে অংশ নেওয়ায় এক বিরাট আত্মশুদ্ধি ঘটে। নবরাত্রি হল এখানকার প্রধান উৎসব যা হাজার হাজার ভক্তদের আকর্ষন করে। 





Comments

Popular posts from this blog

রঘুরাজপুর, পটচিত্রের গ্রাম, পুরী।

আদালাজ স্টেপওয়েল

বড়ুভা ----- কুমারীসুলভা এক সমুদ্র সৈকত