ভাবছেন কোথায় যাবেন এই বর্ষায়। এর সাথে যদি রবিঠাকুরের " শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা, নিশীথ যামিনী রে, " গানটি মনে মনে গুন গুন করে গাইতে থাকেন, তবে তো মনে হওয়াই স্বাভাবিক। মনে হবে যেন কোনো এক সমুদ্র সৈকত নিজেকে ভিজিয়ে সমুদ্রের মতো উত্তাল হয়ে উঠি। পশ্চিমবঙ্গের গা ঘেঁষে আছে অনেক ছোট বড়ো সমুদ্র সৈকত -- দিঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুর, উদয়পুর, তালসারি, জুনপুট, বগুরান- জলপাই ইত্যাদি ইত্যাদি। সাবার নাম দিলে এ এক বিরাট তালিকা হয়ে যাবে। আর যার দরকার নেই, কেননা এসব নাম আমাদের প্রায় সবারই মুখস্থ এবং সকলেরই দু একবার ঘোরা হয়ে গেছে। তবে এবার একটু দূরে প্রোগ্রাম করলে কেমন হয়। না, না, আমি পুরী বা গোপালপুরের কথা বলছি না। একটু দূরে _____ মানে বরুভা সমুদ্র সৈকতের কথা বলছি। বরুভা হল অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার সোমপেটার কাছে একটি সমুদ্র সৈকত ও গ্রাম। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাচীনতম সমুদ্র সৈকতগুলির মধ্যে একটি। এই খানেই মহেন্দ্রতনয়া নদী বঙ্গোপসাগরে মিলেছে। এটি একটি শান্ত সমুদ্র সৈকত যেখানে ভিড় নেই বললেই চলে। সেজন্য একে অনেকেই দ্বিতীয় গোয়া বা GOA OF THE EAST বলে ডাকে।
 |
| সমুদ্রের রূপালী রুপ |
 |
| পরন্ত বেলায়____ |
 |
| সূর্যোদয়ের দৃশ্য |
 |
| জেলেদের জাল মেরামত-- গাছের নীচে বসে |
 |
| বীচে যাবার এক পথ |
 |
| সন্ধের সময়______ |
১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ভারত বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের যুগে বরুভা একটি সমুদ্র বন্দর হিসাবে ব্যবহৃত হত। সে যুগে এটি একটি পোতাশ্রয় ছিল। ১৯১৭ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া নেভিগেশনের "চিলকা" নামের জাহাজটি ডুবে যায় এবং পরে সমুদ্রে হারিয়ে যায়। এটি রেঙ্গুন যাওয়ার পথে আগুন লেগে যায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন যখন দেখলেন যে জাহাজটিতে আগুন লেগেছে, তখন তিনি এটিকে বরুভার দিকে সরিয়ে দেন ----- কেননা সেই সময় বরুভা একটি গুরুত্বপূর্ণ পোতাশ্রয় ছিল। এই দুঃখজনক ঘটনার স্মরণে একটি স্তম্ভও নির্মাণ করা হয়। বন্দর তখন থেকেই বন্ধ। কিন্ত পুরোনো বাতিঘর ২০০০ সাল পর্যন্ত দাড়িয়েছিল।তারপরেই তৈরী হয়েছে একটি লাইটহাউস। আপনি ইচ্ছা করলে এই লাইটহাউসের উপরে উঠতে পারেন। সময় বিকেল ৪টা থেকে ৬টা। টিকিটের দাম ৪০ টাকা। পরে ভাইজাগ ভিত্তিক একটি ভুবরীর দল ১০৩ বছরের পুরোনো এই জাহাজ আবিষ্কার করেন। জাহাজের ধ্বংসাবশেষ বালি, ঘন ছত্রাক এবং অন্যান্য জীবজন্তু দ্বারা আবৃত রয়েছে। এটি উপকূলের মাত্র ৪০০ মিটার দূরে রয়েছে।
 |
| "চিলকা" জাহাজের ধ্বঙসাবশেষ |
 |
| বর্তমান লাইটহাউস |
 |
| রিসোর্টের ঘরগুলি |
যদি আপনার ভাগ্যে থাকে তবে দেখতে পাবেন কিভাবে কচ্ছপের বাচ্চা জলে ছাড়া হচ্ছে। ব্যাপারটা হল দূর দুরন্ত থেকে কচ্ছপরা এসে এখানে বালীর মধ্যে ডিম পেড়ে যায়। কিন্ত তার বেশির ভাগ ডিমগুলি অন্যান্য পোকামাকড় / জন্ত বা মানুষেরা খেয়ে ফেলে বা নষ্ট করে দেয়। তাতে খুব কম সংখক বাচ্চা পাওয়া যায়। এব্যাপারটা স্থানীয়লোকের দৃষ্টিতে আসে। তারা এবং স্থানীয় NGO এই ডিমগুলি সংগ্রহ করে স্বাভাবিক ভাবে বালীর তলায় রেখে উপযুক্ত তাপমাত্রায় ডিমগুলি ফোটায় এবং কচ্ছপের বাচ্চা তৈরী হয়। কিছুদিন পর এগুলি একটু বড় হলে সেগুলি নিয়ে গিয়ে সমুদ্রের জলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এটা একটা দেখার মতন জিনিস।
 |
| কচ্ছপের বাচ্চা |
 |
| কচ্ছপের বাচ্চা |
 |
| সমুদ্রের জলে বাচ্চা চলে যাচ্ছে |
 |
| কচ্ছপের ডিম থেকে বাচ্চা ফাটানো জয়গা |
 |
| গুটি গুটি পায়ে চলেছে সাগরের জলে |
 |
| সমুদ্রের পাড়ে কচ্ছপের ফসিল |
খুব সহজেই এখানে আসতে পারেন। হাওড়া থেকে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের চেন্নাই মেল ধরে পরের দিন সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটের সমপেটায় নামুন। ষ্টেশন থেকে auto tempo ধরে ১৭ কিমি দূরে রিসোর্টে চলে আসুন। ভাড়া লাগবে ৪৫০ টাকা।এছাড়া সোমপেটার পরের ষ্টপেজ পালসাতে নামতে পারেন। তবে পালসা থেকে বরুভার দূরত্ব ২৩ কিমি। রাস্তা দিয়ে এলে NH-16 থেকে ৫ কিমি।জেলাশহর শ্রীকাকুলাম থেকে ১০৯ কিমি দূরে এই গ্রাম। আর রাজধানী শহর হাইদ্রাবাদ থেকে ৭৭৮ কিমি দূরে এই গ্রাম। তবে থাকার জায়গা একটিই। APTDC এর Harita Beach Resort. যদিও করোনার পর থেকে এর পরিচালনার ভার একটি প্রাইভেট সংস্থার উপর ন্যাস্ত করা হয়েছে। ১৬ খানা AC ডবল বেড রুম রয়েছে। প্রত্যেক ঘরের সাথে সমুদ্রমুখী বারান্দা রয়েছে । ঘরের বিছানায় বসে আপনি সমুদ্রের ঢেউ দেখতে পাবেন আর সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাবেন। রয়েছে WI-FI এর সু বন্দোবস্ত। এদের ব্যবস্থপনায় রয়েছে এক বড় রোস্তোরা। Breakfast free. অডার দিলে ইচ্ছামতন খাবার পেতে পারেন। সঙ্গে রয়েছে একটি BAR ও। দুটোই খুব পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। এখানকার প্রত্যেক কর্মীর ব্যবহার ভাল। কলকাতা থেকে বুকিং নাহলেও ফোনে বুক করা যায়। কোনও অসুবিধা হয় না। এছাড়া এখানে দূর্গামন্দির, কোটিলিঙ্গেশ্বর স্বামীমন্দির ( কথিত আছে যে ৯৯,৯৯,৯৯৯ টি লিঙ্গ এখানে আর্টিকেল হয়েছিল যে কারনে এটি কোটি লিঙ্গেশ্বর স্বামীমন্দির নামে পরিচিত) এবং জনার্দন স্বামীমন্দির রয়েছে। সবই সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত।
 |
| ঐ দেখা যায় সমুদ্র |
 |
ঘরে বসেই সমুদ্র দেখা
|
 |
| Resort এর ঘরগুলি |
 |
| একের পর এক ঢেউ |
বর্তমান সভ্যতাকে উপেক্ষা করে নিজেকে একটু চাঙ্গা করতে চলে আসুন এখানে। ঘরে বসেই আপনি যে কোনো রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সমুদ্রের বিভিন্ন রং দেখতে পারবেন। যেহেতু এটি অত্যন্ত নির্জন, আপনি আপনার সামনে ছড়িয়ে থাকা ঢেউ গুলির সাথে , কার্যত পুরো সৈকতটিকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন। আর হোটেলের ঘর থেকে সমুদ্র বা রাতের সময় সমুদ্রের রোমাঞ্চকর দৃশ্য উপভোগ করতে হলে অবশ্যই এখানে আসতে হবে।
শ্রী হরদাস চক্রবর্তী মহাশয়ের মন্তব্য দেখুন::-::
ReplyDeleteআমিই প্রথম যে লেখাটা পরে এত ভাল লাগল যে সাথে সাথেই উত্তর দিলাম। পরীক্ষার নম্বরের মত রেটিং থাকলে A++++......... দিয়ে দিতাম। কোন কথা হবে না সব দিক দিয়ে। সত্যিই অসাধারণ।
শ্রী রনেন চক্রবর্তীর অভিমত :
ReplyDeleteSea beach er upor amar agroho borabor, kintu apnar lekhta Porte porte mone hocchilo nijei okhane chole gechi. Khub bhalo laglo.
শ্রী মতি সন্ধ্যা বোসের প্রতিবেদন ****
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো একটি নতুন সমুদ্র সৈকতের বিষয়ে জেনে।খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। আরো নতুন জায়গার বিষয়ে জানার আগ্রহ রইলো।ভালো থাকবেন।
শ্রী মতি শোভা বিশ্বাস লিখেছেন******
ReplyDeleteApurbo lekha o sundor bornana kore lekha ta pore khoob bhalo laaglo .koto ajana totho gulo jante parlam sotti khoo.......b bhalo laaglo .
Comment of Smt Meena Dey
ReplyDeleteExcellent
Comment of Mr Amit Bhattacharya ::
ReplyDeleteNicely narrated... with great pictures ☺️💕